রেনকিন সাইকেলের (Rankine Cycle) দক্ষতা সাধারণত তিনটি পদ্ধতিতে বাড়ানো যায়ঃ
১. কন্ডেন্সারের প্রেশার কমানোর মাধ্যমেঃ
কন্ডেন্সারের প্রেশার কমালে কি হয় আসলে? তার আগে আমাদের জানতে হবে এই সাইকেলের মোট কাজ কত? মোট কাজ হল T-S diagram এ ১-২-৩-৪ রেখা দ্বারা আবদ্ধ ক্ষেত্র। এখন যদি আমারা কন্ডেন্সারের প্রেশার কমিয়ে দেই তাহলে ৪-১ রেখাটি আরো নিচে নেমে ৪'-১' এ হবে। ফলে নতুন আবদ্ধ ক্ষেত্রটি হবে ১'-২-৩-৪'। যার ক্ষেত্রফল ১-২-৩-৪ এর চেয়ে বেশি। তার মানে হল মোট কাজ আগের চেয়ে বেড়ে গেল। এখন প্রশ্ন হতে পারে এখানে তো কোন প্রেশার এর লাইন নাই, এটাতো তাপমাত্রার লাইন। খুব ভাল, প্রেশার লাইন আমরা পাব p-h diagram থেকে। যেহেতু প্রেশার কমার কারণে তাপমাত্রাও কমে তাই এখানে তাপমাত্রার লাইন দিয়েই বুঝানো হয়েছে।)
২. বাষ্পকে সুপার হিটিং করেঃ
আমরা জানি বাষ্প যত বেশি ড্রাই হবে তত ভাল। ড্রাই মানে হল বাষ্পের পানির কণা (moisture) না থাকা। নর্মাল আবস্থাতে বাষ্পে অনেক জলীয় ক্ণা থাকে। যে বাষ্পে জলীয় কণা যত কম সেই বাষ্পে তত বেশি শক্তি থাকে বলে বেশি কাজ পাওয়া যায়। আর সে কারণেই এই বাষ্পকে অত্যাধিক তাপে সুপারহিট করে জলীয় কণা প্রায় শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনার মাধ্যমে রেনকিন সাইকেলের তাপীয় দক্ষতা বাড়ানো হয়।
চিত্রে ১-২-৩'-৪'মোট কাজ ১-২-৩-৪ এর চেয়ে বেশি কারণ ১-২-৩'-৪' এর মোট ক্ষেত্রফল বেশি।
৩. বয়লারের প্রেশার বাড়ানোর মাধ্যমেঃ
আচ্ছা পানি কত ডিগ্রি তাপমাত্রায় বাষ্পে পরিণত হয়?
১০০° তে? উত্তরটি ভূল! পানি কিন্তু ৯০/১০০/১১০/১২০ ইত্যাদি তাপমাত্রায় বাষ্পে পরিণত হতে পারে। এখন কত ডিগ্রিতে বাস্পে পরিণত হবে সেটা নির্ভর করবে চাপের উপর। চাপ যত বেশি হবে তাপমাত্রাও তত বেশি লাগবে বাষ্পে পরিণত করার জন্য। এখন কোন বাষ্প যদি ৮০/৯০ ডিগ্রিতে বাস্পে পরিণত হয় তাহলে সেই বাষ্পে যেই পরিমাণ তাপশক্তি থাকবে তা কি ১২০ বা ২০০ বা আরো বেশি তাপমাত্রায় যে বাষ্প হবে তার চেয়ে বেশি হবে? অবশ্যই বেশি তাপমাত্রায় যেই বাষ্প হবে সেই বাষ্পের তাপশক্তি কম তাপমাত্রায় তৈরি হওয়া বাষ্পের চেয়ে অনেক বেশি হবে। আর তাই বয়লারে চাপ বাড়ালে বাষ্পের তাপ ধারণ ক্ষমতা বেড়ে যায় বলে রেনকিন সাইকেলের তাপীয় দক্ষতা বাড়ে। চিত্রে ২'-৩' লাইনের মাধ্যমে তা দেখানো হল।